স্ট্রোক করে নারীর ছেয়ে পুরুষ বেশি মারা যায় কেন যানেন.?
চিকিৎসা বিজ্ঞান ও বিভিন্ন বৈশ্বিক গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদের তুলনায় পুরুষদের কম বয়সে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়া এবং এতে মারা যাওয়ার হার সামগ্রিকভাবে বেশি। তবে এটি একটি বহুমাত্রিক বিষয়, কারণ বেশি বয়সে (বিশেষ করে বার্ধক্যে) আবার নারীদের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ে। তরুণ ও মধ্যবয়সী পুরুষদের মধ্যে স্ট্রোকে মৃত্যুর হার বেশি হওয়ার পেছনে প্রধান কারণগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. জীবনযাত্রাগত ও আচরণগত ঝুঁকিপুরুষদের জীবনযাত্রার কিছু অভ্যাস সরাসরি স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়:ধূমপান ও মাদক: নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে ধূমপান, জর্দা-গুল এবং অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবনের প্রবণতা অনেক বেশি। এগুলো রক্তনালির ক্ষতি করে এবং রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: খাবারে অতিরিক্ত লবণ, চর্বিযুক্ত খাবার এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার প্রবণতা পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, যা ধমনিতে চর্বি জমায় (Atherosclerosis)।
২. উচ্চ রক্তচাপ এবং অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসহাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ: স্ট্রোকের সবচেয়ে বড় কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ। পুরুষদের মধ্যে কম বয়সে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার এবং তা নিয়ন্ত্রণে অবহেলা করার হার বেশি।ডায়াবেটিস ও স্থূলতা: পুরুষদের মধ্যে ডায়াবেটিস এবং ওজনের আধিক্য রক্তনালির স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট করে স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
৩. জৈবিক ও হরমোনজনিত সুরক্ষা (ইস্ট্রোজেন হরমোন)নারীদের প্রাকৃতিক সুরক্ষা: মেনোপজ বা ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেন (Estrogen) নামক হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোন রক্তনালিকে নমনীয় রাখে এবং হৃদরোগ ও স্ট্রোক থেকে সুরক্ষা দেয়।পুরুষদের হরমোনজনিত ঘাটতি: পুরুষদের শরীরে এই ধরণের কোনো প্রাকৃতিক সুরক্ষা কবচ থাকে না। ফলে সমবয়সী একজন নারীর তুলনায় একজন পুরুষ অনেক কম বয়সেই স্ট্রোকের ঝুঁকিতে পড়েন।
৪. মানসিক চাপ ও কাজের পরিবেশঅতিরিক্ত স্ট্রেস: পুরুষরা সাধারণত পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় তীব্র অর্থনৈতিক ও সামাজিক মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যান। অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং অপর্যাপ্ত ঘুম রক্তচাপ বাড়িয়ে হঠাৎ স্ট্রোকের কারণ হয়।শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা: দীর্ঘ সময় ডেস্কে বসে কাজ করা বা কায়িক পরিশ্রমের অভাব স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
৫. চিকিৎসায় অবহেলাপুরুষদের মধ্যে শরীরে কোনো জটিলতা দেখা দিলেও চিকিৎসকের কাছে যাওয়া বা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা (Check-up) করানোর ব্যাপারে এক ধরনের উদাসীনতা দেখা যায়। ফলে ভেতরের উচ্চ রক্তচাপ বা ব্লক বাড়ে এবং হঠাৎ করে বড় ধরনের স্ট্রোকের রূপ নেয়।একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য:পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কম এবং মধ্যবয়সী (৫৫-৬০ বছরের নিচে) মানুষের ক্ষেত্রে পুরুষদের স্ট্রোক ও মৃত্যুর হার বেশি। কিন্তু ৬৫ থেকে ৮০ বছর বা তার বেশি বয়সে পৌঁছালে নারীদের গড় আয়ু বেশি হওয়ার কারণে এবং মেনোপজের পর হরমোনের সুরক্ষা চলে যাওয়ায় তখন নারীদের স্ট্রোকে মৃত্যুর সংখ্যা পুরুষদের চেয়ে বেড়ে যায়।
🎁 Your Special Offer is Loading...
Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.
⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Comments
Post a Comment